Tuesday, 1 January 2013

নিবি...?


কত কি লিখিস তুই...! আমি অত পারিনা...!
লিখতে কি আর ইচ্ছে করে না,বল?
যখন চুপের ঘোরে,আলতো করে ঘুমায় নদীর পাড়...
যখন ঘুমের ধূয়া রাত-মহুয়া প্রলাপ বকে তার...
সত্যি বলছি,খুব লিখতে ইচ্ছে করে... কিন্তু আমি যে অত পারিনা!!

তুই কিন্তু খুব পারিস... ইচ্ছে হলেই কটা শব্দ দিয়ে রঙ তুলি বানিয়ে নিয়ে যা খুশি তাই লিখে ফেলতে...
আকাশ ভর্তি করে বিষাদের উল ছড়িয়ে আমি ফাঁকা ছাদে একা বসে সোয়েটার বুনি......আর তুই...?
তুই তখন রঙ লিখিস,গন্ধ লিখিস,গদ্য লিখিস,ছন্দ লিখিস... আকাশভরা মেঘের ঢল লিখিস... চুঁইয়ে-পড়া বৃষ্টির জল লিখিস...
বেগনি রঙের ধুতরো লিখিস... ভাঙা চুড়ির টুকরো লিখিস...
গলা-জড়ানো রাত লিখিস... সন্ধ্যের সওগাত লিখিস...
আর আমি দেখি... শুধু দেখি... সব অনুভব কথা ভুলে যায় নিমেষে... বুনতে বুনতে ঘর ভুল হয়ে যায়...!! কত কি যে ভাবি...? সেসব আর বলাই হয় না তোকে!
ভাবি বলবো,একদিন যদি একটা গল্প লিখিস তুই... বেশ হবে তাহলে! নীলচে সবুজ রঙের গল্প একটা...?!
মনভোলানো যত্ন নিয়ে... ভোররাত্রের স্বপ্ন নিয়ে...
আধেকটা ঢেউ ডানায় নিয়ে...তোকে নিয়ে আর আমায় নিয়ে...?!
বেশ হবে তাহলে!
বেশি বড় না; ছোটগল্পই লিখিস, কেমন...
কোথায় শুরু আর কোথায় শেষ,কেউ ধরতেই পারবে না...! দিব্বি চলবে শনশনিয়ে... আগুন জ্বলবে,শিশির পড়বে,শুকনো পাতাও খুব ঝরবে... প্রতি শব্দে হাজার-রঙের ফুল ফুটবে অগুনতি... পড়বে যখন বৃষ্টি তখন ভিজিয়ে দেবে ঝমঝমিয়ে...!!
বেশ হবে!!
কিন্তু কেমন করে শেষ হবে...?
তখন ভাবি জিগেস করবো তোকে,একেবারে শেষটুকুর জন্যে আমার একটা কবিতা নিবি রে?
কে জানে কত বছর ধরে,অনেক অনেক চেষ্টা করেএই একটা মাত্র কবিতা লিখেছি... তার চারটে মাত্র লাইন,
........ ঊষরবেলায় ধূসর মেঘের মিহিরঙ দিয়ে দিয়ে
আমি সোনালি গোধূলি পথ এঁকে নিতে পারি;
........ একবার ছুঁয়ে দ্যাখ আজ ওই কাঁটাতারটা পেরিয়ে
আমি হাত ধরে তোর মাঝনদীতে ফেরারি!!
নিবি...?

Saturday, 29 December 2012

তোর আমি কি?


এক্ষুনি তুই অন্য কেউ!
রংধোঁয়াশা সর্বনাশা
যেদিন তোকে দেখেছিলাম মিথ্যে সে-ও...
অন্য কেউ!
অন্য কেউ!

পরক্ষণেই আকাশ তুই...
রংমশালে দহনকালে
ফুল্‌কি হয়ে পুড়লে তোকে একটু ছুঁই...
আকাশ তুই,
আকাশ তুই।

একদিনকে তুই হিসেব;
"বলবো নাকি চুপটি থাকি"
দস্তাবেজে অঙ্কমেশা অধঃক্ষেপ!
তুই হিসেব,
তুই হিসেব।

সেই বিকেলেই বেহাগ-মন...
ঘুম-মহুলে ইচ্ছেভুলে
"স্বস্তি দেবো, স্বস্তি দেবো"... পাগলপন!
বেহাগ-মন,
বেহাগ-মন!

তোর আমি কি? রঙীন কাঁচ?
বদলচোখে দেখলে তোকে
সাতরঙা তুই এককাপড়ে... একটি সাজ...
রঙীন কাঁচ!
রঙীন কাঁচ!

Saturday, 1 December 2012

আলাপিতায়... এস.এম.এস. এ... ...


[কোন এক রাতে গুমোট থেকে মেঘলা পেরিয়ে দারুণ বৃষ্টি হয়েছিল শেষকালে, ভোরের দিকে... আমরা জেগেছিলাম... আর একটানা লেখা হয়েছিল কিছু পাগলামির এস.এম.এস... তাই দিলাম, একটুও বদল না করে...]

তুইঃ
সারাটারাত কার নামে যে গা ধোয়ালো?
বৃষ্টিভেজা আকাশ দিলো ডাইরি পাতায়...
আমার কেমন বাঁধ মানে না ইচ্ছেগুলো...
স্বপ্ন বেছে আটকে রাখি নকশিকাঁথায়...

আমিঃ
এমনি করে কার পায়ে তুই ঝড় লুটিয়ে
মল পরালি? ঘুম ছুটিয়ে
কার সে হাতের রাখলি পরশ বুকপকেটে?
প্রাচীন যত ছন্দ কেটে আঁকলি খাতায় পাতাবাহার...?
নামখানি তার বল্‌ না আমায়... নামখানি তার...

তুইঃ
ইচ্ছেপরাগ ঘুম ভুলে যায় তার পরশে,
নাম কি দেবো...! বকুলকথা...? নয়ানজুলি...?
সাবধানী’রা মানচিত্রের হিসেব কশে,
আর আমি এক... ভাঁটার টানে উজান ভুলি...

আমিঃ
তোদের কত গল্প থাকে সাগরপারের...!

উজান বাতাস আমার হাতের ইচ্ছেপালক...
আমার ফোনের মনখারাপি স্ক্রিনসেভারে
সেই তো ভাসায় ঘোর সেপিয়ায় সুতীব্র চোখ...

তুইঃ
রাত ফুরিয়ে ঠিক যবে সেই চৈতালি ভোর
দ্যাখ খুলে দ্যাখ মুঠোর ভেতর তোর’ও আকাশ,
সাগর রঙের স্বপ্ন আছে তোর আঁচলেও
ইচ্ছে করেই ভুল করে দ্যাখ... এই অবকাশ...!

আমিঃ
ধুর ! তুমি ছাই কিচ্ছু বুঝলে না কো...
‘ভুলপুরানে’র ছবিই খালি আঁকো...!
রোদ পড়েছে আমার ঠোঁটের কোণে...
বৃষ্টি-আকাশ আমার তমাল বনের...

তুইঃ
ঠিক বলেছিস... বুঝতে আমি চাই না কিছু
নিঝুম দুপুর... ছাদ-রেলিঙে আকাশ নিচু...
তুমিই বল, কি লাভ মেলে একলা বেঁচে?
কাকতাড়ুয়া একা-একাই বৃষ্টি ভেজে...
বড্ড ক্লিশে একটা চাঁদের ওলোটপালোট,
কালোয় মিশে বড্ড কাঁদায় আপোশবাণী
মন’টা বোকা... রাতের কাছে খেয়েছে চোট...
বাসি খাটে মুখ গুঁজে হয় কানাকানিই...

আমিঃ
সমুদ্রনীল বাতাস আসে আমার পাড়ায় সে সব রাতে...
যখন তুমি আপোশ শোনো... প্লাবন শুনি বৃষ্টিপাতে!
যাবি তো চল্‌... চোট ভুলে একছুট্টে ঝড়ের অন্তরীপে,
আলো জ্বলুক... আলো নিভুক... আমার হাতের জোনাক-দীপে...

তুইঃ
চল না খেলি দু'জন তবে নতুন খেলা?
আলোর ঘরের নিশান খোঁজা সমুদ্দুরে?
পুকুরজলে পা ডোবানোর স্বপ্নভেলা
ভাসিয়ে দিই চল্‌ গাঙ-মোহনার উথাল জুড়ে...

আমিঃ
আমার কথাও রাখলে তবে খেলতে পারি
বাঁচার খেলায় ভাগাভাগি মানলে, তবে...
অন্ধকারে সমান হবে অংশিদারী
আগুনব্যথার আদ্ধেকটাও আমার হবে...
আয়না ভাঙা কাচের গুঁড়ো... তাও দুজনের...
নিয়মগুলো তোর আর আমার আধাআধি...
স্বপ্ন পেলেও ভাগ হবে তা চারটি চোখে
রাজি তো চল্‌, নতুন খেলার মন্ত্র ফাঁদি...

Saturday, 17 November 2012

সোহাগী


শ্যাম, আমি তোর রাই হবো না... নীলাম্বরী...
তুই বিহনে জাগবো না রাত অশ্রুসজল,
তুই আমাকে বাঁশিই করিস সোহাগরঙের
আর বাধাহীন আশ্রয় দিস... ঠোঁটের আগল...!

খেলাচ্ছলেই অহল্যা এই আমায় জাগাস
রাখালিয়ায় স্নান করিয়ে সারা গোকুল
বইবো আমি... খুব অনায়াস... আর অবিরল
আর গোপিনীর হাত ভরাবে কলঙ্কফুল...

যন্ত্রণাতে নীল বিষে তুই আমায় ভরাস,
আর মাধবী জড়িয়ে রাখিস অপেক্ষাতে...
শ্বেতকরবীর স্বপ্ন ভাসাস মাঝযমুনায়
আর আমাকে আগলে রাখিস অন্য হাতে...

শ্যাম, আমি তোর মধ্যরাতের সঙ্গিনী হই...?
আমায় জুড়ে মন্ত্র ঢালিস... মন্ত্রণাহীন...
একলা আমি তোর আঙুলের নিই না দখল...?
উছলে পড়ুক প্লাবন... তবু তৃষ্ণা গহীন...!

এমনি চলুক... ভুলবি না তো বেখেয়ালে?
খুব অভিমান করবো তবে তোর ওপরে,
বুঝতে পেরেও কি সুর খেলে মনের ভাঁজে
অন্য সুরে বাজবো আমি... ইচ্ছে করে...

আর যদি ধর, এমনি আমি হারিয়ে গেলাম...
তন্ন করে খুঁজবি আমায়...? আমি যেমন
সমস্তখন খুঁজছি তোকে...? ঠিক সেভাবে
ধূসর হবে, অলীক হবে রাত্রিযাপন...

আরো খারাপ? হারিয়ে গেলাম... আর পেলি না...!
মনখারাপে ডুববি তখন... সর্বনাশী
এক'শ সুরের ঋণ কোলে তুই থাকবি জেগে...
আমিই তখন তোর বিরহ...!! শ্যামের 'বাঁশি'...!

শ্যাম, আমি যে আর জানিনা বাঁচার উপায়,
রাই হবো না, চাই হতে তোর প্রাণজোনাকি...
গভীর শীতে আরো গভীর উষ্ণতা হই...?
শ্যাম, আমি যে ভীষণ রকম 'তুই-সোহাগী'...!

Wednesday, 10 October 2012

অনেক দূরের পথ


অনেক দূরের পথ বাকি; প্রয়োজন হলে
আমায় হাজার নামে ডাকতেই পারো...
কিম্বা না-ডেকে থাকা... তাও হয়...

শুধু পিপাসা গহীন হলে শ্বাস নিও গাঢ়
আমি আছি... দেখো,
নিশ্চুপে; বুকজুড়ে আর্দ্রতা দেবো বলে...
আমি আছি খুব কাছ ঘেঁষে...
আমি আছি তৃষ্ণার জলে।

আলেয়া ডাকলে পরে... পথ ভুলে দলছুট হলে
তোমার চোখেতে লীন ধ্রুবতারা হয়ে যেতে পারি...
ভরসার সামিয়ানা শ্রাবনী মেঘের...
ভালোবাসা ভরসা আসলে;
ভালোবাসা মন-ভালো-বাড়ি...!

শুধু যদি কোনোদিন ঝড় ওঠে...
খুব ঝড়...
যদি বাজ পড়ে...
বানভাসি হয়ে যাবো, যদি ভয় করে...
সেদিন দোচালা হোয়ো... অচল, অনড় আশ্রয়
ঘুম এঁকে দিও চোখে খুব ভালোবেসে
দূর করে বুক-কাঁপা সব সংশয়!

বেশি চাওয়া নয়...
শুধু এটুকুই
হাতে ধরা থাক খালি তোমার আঙুল...

অনামী ঘাসের প্রিয়া হবো...
বেগনি রঙের ঘাসফুল...

Wednesday, 19 September 2012

রংরঙিন


কিই বা হবে কালশিটে দাগ নিবিড় হলে,
কিই বা হবে ঘুম না এলে মর্চেধরা,
কিই বা হবে লাটাই যদি সামলানো দায়,
ইচ্ছেলেখার আধপাতা হোক গিলটি করা...!

ইচ্ছে আমার তোর সকালের আকাশ জুড়ে
টারকুইজের রঙ গুলে দিই; স্বপ্নসকাশ,
ইচ্ছে যে তোর দিনের চলা শুরুর পথে
ঠোঁট ছোঁয়াবে ভিরিডিয়ান অনাম্নী ঘাস !

ইচ্ছে আমার তোর বাগানে ফুলের মেলা
ল্যাভেন্ডারের গোলাপি আর সর্ষে হলুদ,
ইচ্ছে আমার তোর দু-মুঠো আলোয় আলো
কাঁচা সোনার রোদ্দুরে হোক আপনাতে বুঁদ...

ইচ্ছে আমার তোর সারাদিন আঁকবো আমি
আনুপাতিক অলিভ পরত মাখিয়ে তাতে
ইচ্ছে যে ঠিক সময়মতন ঘুম ভাসাবো
প্রুসিয়ানের সঙ্গে সবুজ মধ্যরাতের...

ইচ্ছে যে তোর স্যাফায়ারের রাত-আসমান
চাঁদোয়া হোক ম্যাগনোলিয়া নক্সা কাটা...
ইচ্ছে যে তুই স্বপ্নবাজার দখল করিস
শেষ করে ওই সেপিয়া রঙ রাস্তা হাঁটা...

ইচ্ছে যে তোর শান্তি ডুবুক আইভরিতে
লাইলাক আর ভায়োলেটের তুলির ছোঁয়ায়
আশা'রা সব জিইয়ে থাকুক হাসির মতন
কমলারঙা আলোর কুচি কুড়িয়ে নিই... আয়!

ইচ্ছে যে তোর ইচ্ছেগুলো আকাশি হোক,
স্বপ্নগুলোয় কচি নেবুর সবুজ হদিস,
পারস্য লাল সোহাগ থাকুক হৃদয় ভরে,
ভরসাতে তোর চেরিফুলের রঙ ভরে নিস...

কিই বা হবে কালশিটে দাগ, মর্চে ঘুমে
ফোঁটার সাথে প্যালেট দিলাম আয়না দেখার
যমের দুয়োর ক্যাকটাসে আর কাঁটায় কয়েদ...
সোনার ফ্রেমে বাঁধিয়ে দিলাম ইচ্ছেলেখা...

Sunday, 26 August 2012

আমার প্রিয় ইলশেগুঁড়ি


আমার প্রিয় ইলশেগুঁড়ি, কেমন আছিস, বল্?
আর কাকিমা কেমন আছেন? কেয়া দি? চঞ্চল?
আর বাকি সব খবর কি রে? কেমন শ্বশুরবাড়ি?
বিয়ের দিনে যাই নি বলে রাগ করেছিস ভারি...
তাই না...? আমি যাই নি তা নয়... যাই নি বলা ভুল...
দু'দিন আগে চিঠি পেলাম... আমার তো ইস্কুল!
একলা আমি... চারটে ক্লাসের একলা দিদিমনি...
কলকাতাতে যাওয়া-আসা... সময় অনেকক্ষণই
লাগতো, জানিস... তার ওপরে মায়ের শরীর যা না!
আর কত কি বলবো তোকে? সবই তো তোর জানা...
তাই ভাবলাম, বৃষ্টি লিখি... রোদ লিখে দিই তোকে...
ছায়ায় ঢাকা পথ লিখে দিই... স্বপ্ন লিখি চোখে...!

মনে পড়ছে, জানিস... তোদের দেউল ছাড়ার আগে
সেই যে আমরা হেঁটেছিলাম... ভাবতে অবাক লাগে...
কালিপাহাড়ি পেরিয়ে গেলে রেললাইন'টা পড়ে...
মনে পড়ে, ইলশেগুঁড়ি, লাইন ধরে ধরে
কত'টা পথ হেঁটেছিলাম... পিছন ফেলে গাঁ-টা,
ব্রিজ পেরিয়ে... ক্ষেত পেরিয়ে... অনন্তকাল হাঁটা...
'দেউল হল্ট' ছাড়িয়ে গিয়ে বাঁ'দিকে সেই পোড়ো
ভূতের বাড়ি...? কত কথা... আমারও আর তোরও
ছিল সেদিন... ভেবেছিলাম, তুই-ই চলে গেলে,
আমার কথা ঐ বাড়িতেই লুকিয়ে যাবো ফেলে...

কত কথাই থাকতো তখন...! কাদের নিয়ে কথা??
কোথায় তারা, ইলশেগুঁড়ি...? ভীষণ অসুস্থতা
সমস্তদিক ঢাকছে, জানিস? মা'কে নিয়ে ভাবি...
বাইশখানা ওষুধ দিনের... আমার ঘরের চাবি
ওই আঁচলেই... আমিও তো ভাই ওই আঁচলেই বাঁধা...
লড়ছি, জানিস...! তবুও কেমন মিলছে না এই ধাঁধা...!
বড়দি তো সেই ঘরেই বসে; বৌ'ভাত আর বিয়ে
সবই বেকার... মেয়ে বলে কেউ যায় নি ওকে নিয়ে;
কি যে ওরা চেয়েছিল? গয়না, শরীর, ভিটে...?
দু'দিন বাদে ফিরলো; সাথে অগুনতি কালশিটে...
বড়দি আমার সাথেই আছে... চুলোয় নিয়ম-রীতি!
সে সব কথা হয় নি বলা... হয় নি লেখা চিঠি...
আসল কথা, লিখবো'টা কি? পাইনি খুঁজে কূল;
সেই থেকে এই তিনটি প্রানী... ভরসা আমার স্কুল...
তুই বলবি, "কেন? অমল...?"... আমার হাসির পালা...
"আমায় ভালোবাসে অমল? ও হবে আটচালা...?"
বলেছিলাম... মনে আছে? পোড়ো বাড়ির ছাদে?
আমার হাসি আটকে গেছে আমার কথার ফাঁদে;

ঘাটতি, জানিস, দারুন ঘাটতি পড়েছে সংযমে,
সারা'টা ক্ষন কেমন জানি ভয় করে ছমছমে...
রাতের বেলা একলা শুলে পূবমুখো এই ঘরে
রেলের লাইন ধরে হাঁটা ভীষণ মনে পড়ে...
সেদিন আকাশ রাঙিয়ে ছিল শিমূল ফুলে ফুলে...
গানও একটা বেঁধেছিলাম... সুর'টা গেছি ভুলে...
কথাগুলো...? কথাগুলো দারুন অভিমানে
মুখোস পরে হারিয়ে গেছে কুঠরি-অভিধানে...
তুই বলতিস, ছন্দ আছে আমার ভিতর নাকি!
ছন্নছাড়া খুঁজছি আমি ছন্দ মানে'টা কি?!
সাহসগুলো মরছে, জানিস... কপাল ফুটিফাটা...
কত'টা পথ? ইলশেগুঁড়ি... আর কত'টা হাঁটা...?

বাদ দে...! তুই ভালো থাকিস... ভালো রাখিস আরও...
তুমি আমার ইলশেগুঁড়ি, সবই তুমি পারো...
"তোর বিয়েতে........." এম্নি কত ফর্দ ছিল টোকা...
কোথায় সেসব? সময় কেমন বানিয়ে গেল বোকা...!
“নদীই দেবো” ভাবতে দেখি শুকিয়ে নদী সোঁতা...
বৃষ্টি দেবো... ছায়াও দেবো... সবই কথার কথা...
সত্যি করে তোর বিয়েতে কিচ্ছুটি নেই দেবার...
পারলে, তুই পদ্য ছেড়ে গল্প লিখিস এবার।