Saturday, 16 April 2016

স্ক্রিবল

বছর গেলে ঘুরছে চাকা; শুকোচ্ছে নীল রঙ দোয়াতে,
একশো ছবির ক্যানভাস আর কে'ই বা বলো চায় খোয়াতে?
গড়তে পারো সাতমহলা, আঁকার ক্লাসে রোজ হাজিরা...
বদলাবে না সত্যি তাতে... ইচ্ছেখাতা আলতামিরা।

Friday, 15 April 2016

আমার ঠিকানা'কে

অনতি-অতীত “কি খবর?” বলে যেই হকিকত-হাল পোঁছে,
বলে কোণামোড়া ডায়েরির পাতা, (হীরে, তুলে রাখা আলগোছে…)
“ঘাস-গালিচায় গান ভাসালাম,
অথবা হিসেবি ঝগড়ুটে শাম
সে’সব না’হয় বাদ’ই দিলাম… তবু সব ছবি যায় কি বাদ?
তুই যেইদিন রবার্ট ব্রুস? বা আমরা সবাই সিন্দাবাদ?”

রোদ নিচু হয়ে পড়ছে শনিবারের বইমেলায়। স্টলে সামলানো-দায় ভিড়। আর বুকের ভেতর ক্রমশঃ  বাড়ছে উদ্বেগ! প্রেস-সংক্রান্ত গোলমালে অসংখ্য বই-এর বাঁধাই-এ ভুল! বিক্রির মত বই হাতে ছিল খান চল্লিশেক। অথচঃ দিনের শেষে বই বিক্রি সেঞ্চুরি করে ফেলেছিল! কারণ, একটা ছেলে চোখের জ্বালার জন্যে হাতে-ধরা ব্লেডের ধার কমতে দেয় নি! স্টেপলারের পিনে ক্ষতবিক্ষত হাতে স্টল সাজিয়েছিল নতুন বইয়ের গন্ধ দিয়ে...

ঘন্টা আটেক টানা এঁকে গেলে কতবার হয় নিব্‌ ভোঁতা?
ছুটে বেড়ানোর দুপুরগুলো’তে কি ছিল রোদের তীব্রতা?
কারা রয়ে গেল কার কাছে ঋণী,
“সেদিন আমরা আসতে পারিনি…
একা সামলালি…?”… সে’সব ঋণের ওজন আমার মাপতে ভয়!
এক-একটা দিন ভাবলে তবুও 'কি করে পেরেছি' ভাবতে হয়…

আমাদের প্রথম ঘরোয়া জলসা। খাটুনির চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ক্লান্তি’কে প্রশ্রয় দিই নি যত, প্রতিকূলতা ততই গলা তুলেছে সবার ওপরে। ভয়ের উঁকিঝুঁকি… হয়তঃ গুছিয়ে উঠতে পারবো না সময়ে… হয়তঃ দেরী হয়ে যাবে খুব…! তবু সেদিন সবকিছু ‘জাস্ট পারফেক্ট’ ভাবে মিলে যাওয়ার একটামাত্র কারণ… সেদিন খুব সাধারণ একদল কলেজপড়ুয়া বাংলা, ইংলিশ, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, কমপিউটার, মেক্যানিক্যালের বইয়ের বাইরে এসে দাঁড়িয়েছিল; হয়েগেছিল ইলেকট্রিশিয়ান কিম্বা গিটারিস্ট, অভিনেতা কিম্বা শিল্পী! সামলে নিয়েছিল ২৩০ ভোল্টের চাবুক বা হাতে অগুনতি সূঁচের ক্ষত! প্রতিকূলতার মাথা হেঁট, "কি মারকাটারি মেজাজ রে বাবা!" ঠিকানা… পরশপাথর… ছুঁলেই সোনা করে দেয়!  
             
দুই ঘন্টার অগুনতি রাত, বাইশ ঘন্টা দিন হল;
এক মন ভরা বীজধান নিয়ে এই তো বছর তিন হল…
হাসি’তে করেছি খাটনি উশুল;
আর সেইবার? বেঠিক বেভুল
কার নাম নিলি বেহোঁসি’তে তুই শুনেছি আমরা… নিরুত্তর…
রাস্তার বাঁকে কি লুকিয়ে এলি? আজন্ম চাপা স্বভাব তোর!

রবীন্দ্রভবনে আমাদের প্রথম অনুষ্ঠান সেই সন্ধ্যায়। চাপা উত্তেজনা প্রতিটা চোখে। একটা ছেলে গান ধরল। মুগ্ধতা, শুধু মুগ্ধতা রয়ে গেল! শুধু আমরাই জানলাম মনে মনে, শ্মশানের ধূলো পায়ে লেগে আছে এখনও… দু’সপ্তাহও হয় নি! 

কিছু অভিমানী চাবিকাঠি নেই… কখনও হিসাব করিনি তার; 
সিঁড়ি’তে ফরাসে তোর ধূলো লেগে, তবু বেড়ে যায় কিলোমিটার…
তোর দেশ থেকে প্রজাপতি রঙ,
ছন্দের মত নদীর বিভঙ,
আমার শহরে বৃষ্টি-শিলঙ পাঠাস, আমরা খুব নাছোড়…
সে’সব মিশিয়ে জীবন বিলাবো বইমেলা এলে… প্রতিবছর!

Thursday, 14 April 2016

২০০৯ এর ডায়েরি থেকে...

মেঘেদের নাকি পাড়া বদলেছে, জ্যোতিষী বলেছে পালাবদল;
তাই বৃষ্টি'তে ঝুলবারান্দা স্থবিরতা ভুলে গোড়ালিজল...
গ্রহ তারা চাঁদ শুভ কোণে নত, তবু শান পড়ে বিতৃষ্ণায়,
ভেজার আড়ালে চোখে জল এলে 'মনখারাপিয়া' বলিস না...

Wednesday, 30 March 2016

অফিস-ফেরত

অফিস-ফেরত দেখা, অসময়ে, ভিড়ে...
যেখানে বিস্ময় নেই, হয়ে নেই কেউ হতবাক,
যেখানে নিরুত্তাপ উদাসীন আঁক
থমকেছে তোর মুখে... আলোর ফোয়ারা ঝিরঝিরে...

উড়ে এল মেঠো সুর... সাইকেল দিন...
মৌচাক খোয়াইয়ের মৌতাত সাঁঝ...
অভিমানী চিঠিদের আনকোরা ভাঁজ
উড়ে এল; ভিজে গান... রূপোলী ফড়িং...

Friday, 17 July 2015

কাটাকুটি

এখানেই থাকি, শ্বাস নিই, বাঁচি... তবু
তোর মতে যেন দেখেও দেখি না আমি
ভিখিরি শহর ফুটপাথে জবুথবু...
অনুভূতি সব হাঁপাচ্ছে; কমদামী...

অভিযোগগুলো সত্যি অনেকটাই
আমার স্বপ্ন আজকাল বনসাই;
আগুনে কলম, লাল কালি, পোস্টার
খাটের তলায় ফেলে রেখে দিতে চাই...

আমি যদি বলি ছন্দে পয়ার মিল
আমি যদি বলি তোমার-আমার-ঘর
কাগজের নাও, গাঢ় স্যাফায়ার নীল...
তুই ভেবে নিবি কালবৈশাখী ঝড়...

কেন শুধু শুধু আজ ভাব, কাল আড়ি?
এখন ফাগুন, সবেই ফেব্রুয়ারি...
ঘুমচোখে মুঠো ভরি দখিনায় চল্‌,

পেঁজা মেঘে চল্‌ ভরে রাখি আলমারি..

Tuesday, 14 July 2015

স্ক্রিব্‌ল্‌

কারণ খুঁজেই অঙ্ক সাজাস, ইচ্ছে রাখিস ট্রাঙ্কে ভরে,
বৃষ্টি মাপিস চোঙ রেখে আর দৈর্ঘ্য মাপিস ঘুমজাগরের...
আঁকার খাতায় ঢাললি কালি, রাত্রি জুড়ে আরক্ত পিচ,
মাপতে গিয়ে অসীম হল... অন-অফ-অন ব্যাস্ত সুইচ।

Thursday, 19 February 2015

স্ক্রিব্‌ল্‌

এক
আমার বাড়ি উচাটনের ঝড়ে
আমার বাড়ি অপ্রেম-বন্দরে;
আমার বাড়ি ভীষণ ভবঘুরে...
তোমার থেকে আলোকবর্ষ দূরে...


দুই
হৃদয়ের কাছ ঘেঁষে থাকা ফালি মেঘ
হাত পেতে না চাইলে কি নিয়মে চাই?
কি নিয়মে বাঁধা রেখে রূপোলী আবেগ
শ্রাবনী ভরসা দিয়ে আকাশ রাঙাই?