Monday, 25 February 2013

রাত্রি-ভোর


রাতভোর চাঁদ একা একেবারে! চুপচাপ। ওপরওয়ালারও ভরসা ছিল না কিনা ভালোবাসায়একটা মাত্র চাঁদের জন্য তাই লাখ লাখ তারার পাহারাবলো,কোনো মানে হয়?!

তাই সারারাত চাঁদের ওপর
ওদের খবরদারী
চাঁদের সাথে এক এক করে
সব তারাদের আড়ি...
আর আড়ি তো হবেই... পাহারাদার তো আর বন্ধু হয় না। রাতভোর তাই একা চাঁদএকা,ডুবেছিল, রেগেও ছিল বোধ হয়; পাগলি মেয়ে রে!! কার ওপরে এত্তো অভিমান? সে বুঝি বোঝে...?
এদিকে তখন আমার জানালার গরাদগুলোতেও পালকের মত হিম জড়াতে শুরু করেছে... রাতঘড়ি এগোলেই এমনটা হয় মাঝে মাঝে... সে সব রাত বদলে যায় তখন...

সে সব রাতে হিমেল হাওয়ায় মুক্তো বয়...
সে সব রাতে টুপকথারা শিশির হয়...
নুড়ির মতন স্বপ্ন ছড়ায় রাত-বনে
সময় আমার দাওয়ায় বসে ঘুম শোনে...
সেদিনও ঠিক তেমনি... মাঝরাতের ডাকে আমার একখানা চিঠি আসার কথা, তাই জেগেই বসে আছি
তখনই চুপিসাড়ে ডাকলো চাঁদ,“এ্যাই!! গল্প জানো? গল্প বলো না...!!
বললাম, “হ্যাঁ... জানি না আবার... কত গল্প জানি!! কি রকমটা শুনবে বল?
গল্প আছে খানদানি... খুব সোনালী,জাফরানি...
জমকালো সেই গল্পগুলো... শুনবে কি?"
" উম্‌ম্‌ম্‌... নাহ্‌... আর কিছু আছে নাকি?"
" একটু ভেজা আসমানি... সেই গল্পও খুব জানি!
কিন্তু অনেক অনেক পরত... গুনবে কি?"
" উহু... অত ধৈর্য্য নেই গো! আর? আর কি গল্প জানো?"
" খুব হালকা মনগড়া... প্রজাপতির রঙ-করা...
বেলা শুরুর খেলার কথা... তাও জানি..."
"সে তো বড্ড চেনা গল্প! নতুন কিছু?"
" উন্মনা কু-ঝিকঝিকে... কালোর ছোঁয়া সবদিকে...
আঁধার-আঁধার গল্পসাঁতার? সাবধানী...??"
নাহ্‌! তাও দেখি নাপসন্দ্‌ চাঁদের... গালে হাত দিয়ে খুব খানিক কি ভেবে নিলো ও; তারপর বলল,সেই যে সেদিন রাতে যেটা ভেবে ভেবে খালি খালি কাঁদছিলে,সেইটে বল... সেইটে শুনব...
চুপ করে ভাবলাম খানিক, বলব...?! নাকি...? বলেই দি... কে আর শুনছে?
বললাম,“কাছ ঘেঁষে বোসো তবে... বলি শোনো,গল্প বললে ভুলই হবে... ওওওই যে দেখেছো,পিচঢালা সড়ক যেখানে হোঁচট খেয়ে পড়েছে লালমাটির পথটার গায়ে,ওই সড়কের মোড়ে যে বুড়িমায়ের পাতার ঘর,তাকে জিগ্যেস কোরো;সে বলে দেবে,যা বলছি তার সঅঅব সত্যি... এক যে ছিল কন্যা...
—“দূর, দূর... এটা তো পুরোনো গল্প...শুরু করা মাত্র প্রতিবাদ করে উঠল চাঁদ, “আমি জানি এটা...
—“না গো না...”, হেসে বললাম আমি, “এটা সেটা নয়... এটা কেউ জানে না... বলি,শোনো চুপটি করে...
এক যে ছিল কন্যা! বৃষ্টিধোয়া ধানের শিষের মতন তার রঙ... সন্ধ্যেবেলার যমুনানদীর মতন তার একপিঠ চুল... আর শিশিরভেজা দুব্বোঘাসের মতন তার মন...
—“তারমানে একেবারে রাজকন্যের মতন সুন্দর?” আবার মাঝপথে ফোড়ন কাটল চাঁদ।
—“দূর! তুমি না বড্ড জ্বালাতন কর... চুপ করে শোনো না!রেগেমেগে বললাম আমি, “আমি বলেছি বুঝি রাজকন্যের মতন?? একবারও বুঝি বলেছি,যে সুন্দর?? রাজকন্যে কেন হতে যাবে? এক্কেবারে চেনা কারো মতন... ধর তোমার মতন... বা ধর আমার মতন... বুঝলে? এবার শোন...
...সে ফুল আর পাখি খুব ভালবাসত... আকাশী নীলরং দেখলেই খুশি হয়ে উঠত... বৃষ্টি হলে দেদার ভিজত... মনভালো আর মনখারাপে গান গাইতো... আর মনকেমনে উপুর হয়ে শুয়ে,চুল এলিয়ে দিয়ে অনেকখানি কেঁদে নিত...
ঐ যা! দেখেছ? সে মেয়ের নামটাই তো বলা হয় নি...! তার নাম ধর..... আনমনা!
— “বাহ! বেশ ত! তারপর?”
— “তারপর? তারপর একদিন কিন্তু গল্পটা আর শুধু আনমনের রইল না! আরেকজন কে জানে কখন এসে নিজের নাম লিখিয়ে গেল! তার নাম ধর...... আকাশ!
তার অনেক আলো,অনেক হাসি আর অনেকখানি প্রাণ... অনেক বড় মনও...
— “এই যা!জানলার পাশ থেকে ফিসফিসিয়ে বলে উঠল একদল মেঘ;ওরা যে কখন গুটিগুটি এসে ভিড় জমিয়েছে দেখিই নি...
— “এটা তো সেই আগের গল্পটার মতই হয়ে গেল...”, একসাথে বলে উঠল ওরা...
—“না না... হতেই পারেনা... শেষ অব্দি শোন তো...
কতদূর যেন হয়েছিল..? ...হ্যাঁ, 
অনেক আলো,অনেক হাসি,অনেকখানি প্রাণ আর অনেক বড় মন... আর তার সাথে আকাশের ছিল অনেক অনেক কথা... সেইসব কথাগুলো বলতো না কিন্তু আকাশ... লিখতোও না... সে খালি ছবি আঁকত...

ছবিরা সব গল্প যেন... খুব কাছে আর ভীষণ দূরে
বৃষ্টিদিনে দখিন হাওয়া; দারুন তুফান মাঝদুপুরে!
সব ছবিরাই খামখেয়ালী কথার বারিষ সঙ্গে আনে...
মানেবইয়েও কেউ-উ পড়েনি কখ্‌খনো সেই কথার মানে...!!
ঠিক এরকম ছিল আকাশের ছবিগুলো... তারা অনেক অনেক কথাও বলতো বটে... কিন্তু আনমনা তার কতক মানে বুঝত... কতক বুঝত না... তবুও সে সব কথা গান হয়ে বয়ে যেত ওকে জুড়ে... তখন ভালো লাগত... ভীষন ভাল লাগত...
কিন্তু কখনও কখনও রাগ হত... হিংসেও হত খুব... কে জানে কাকে নিয়ে এত কথা ওর?
ভাবত, কে জানে কে সে’? কেমন সে’?
ভাবত, কোন একদিন হয়তঃ আকাশ নিজেই এসে বলে যাবে তার নাম...
...আর লুকিয়ে লুকিয়ে ভাবত,“সে দিনটা যেন কখখনো না আসে...!!
শুনেছি নাকি পদ্মডাঁটার তুলিটাতে জ্যোত্স্না ভরে নিয়ে সারারাত ধরে আকাশ সেই তার কথা আঁকতো... আর ভোরবেলার হাওয়াতে সেসব ছবি উড়ে এসে যখন আনমনের কাছে পৌঁছাতো,তখন সে হেসে মাতাবে না কেঁদে ভাসাবে বুঝতেই পারত না... আচ্ছা,তুমি বুঝি আকাশকে জ্যোত্স্না ধার দিয়েছিলে, চাঁদ...?”
কোনো সাড়া নেই!
—“এ্যাই! গেলে কোথায়...?”
তাও উত্তর নেই!!
তাকিয়ে দেখি... ওম্মা! গল্প শুনতে শুনতে চাঁদটা কেমন ঘুমিয়ে গেছে!! তাই না দেখে মেঘেরা সব দৌড়ে গিয়ে ঢাকা দিল ওকে...
আমি বললাম,“একবারটি ডেকে দাও না! গল্পটা শেষ করে দিই...!!
তাই শুনে মেঘেরা সব ভীষন বিরক্ত-বিরক্ত মুখ করে বলল,
—“না না... আর হবে না... যাও যাও... ভারি তো গল্প...

মনখারাপি গল্প যত... ঘুমপাড়ানোর ওষুধ শুধু...
তালকাটা এই রাতের মত; উচ্ছেফুলের কালচে মধু...!!
যাও যাও... ওসব গল্প শেষ-টেশ হয় না... ওই যেমন আছে যেটুক আছে... অনেএএক আছে,ঢের আছে...
—“ইইইস!বেপরোয়া হয়ে বললাম আমি,“শেষ করলেই শেষ হবে... না করলেই নয়!! দাও না ডেকে...
—“না না... অনেক হয়েছে... যাও তো তুমি এখন...!রেগে রেগে বলে দিল ওরা...
মনখারাপ হয়ে গেল!

বদলে গেল স্বপ্ননুড়ি, আকাশপট...
জানলা জুড়ে ভিড় জমালো শিশিরজট
সময় টানে ছড় বেহালার...খুব ক্লিশে...!
কান পাতা দায় একশো মেঘের ফিস্‌ফিসে...
পালক-হিমগুলো সব হারিয়ে গেল... আর তারপর...
তারপর তুমুল বৃষ্টি নামল ভোররাতেকি বৃষ্টি! কি বৃষ্টি!
এদিকে মাঝরাতের ডাকে আমার একখানা চিঠি আসার কথা ছিলকোথায় কে? কেউ এল না!
মনখারাপটা রয়েই গেল...

Tuesday, 12 February 2013

দু'পশলা



আকাশ ঘিরে মেঘ করেছে,সূয্যি গেল পাটে,
প্যালেট থেকে সব প্রুসিয়ান নামলো বাজার-হাটে...
আমার ঘরের চাল'টুকুনি নিষেধ-পাতায় ছাওয়া
ফাল্গুনি-ধুন শীতের মতন মেঘলা এ তল্লাটে...
চিলতে শরীর ইচ্ছেগুলোর চুল ওড়ালো হাওয়া,
তোমার মতন দেখতে ধোঁয়া চায়ের পেয়ালাতে...
তক্ষুণি মেঘ খয়েরি হল,ধূসর ঘরের দাওয়া,
বৃষ্টিবিহীন মেঘ আকাশে,সূয্যি গেছে পাটে...


আবার সেদিন জ্যৈষ্ঠ প্রবল,মেঘ-ভাঁড়ারে টান,
টেবিল জুড়ে ছড়িয়ে দিলাম যত্তো অভিমান।
ক্লান্তি দিয়ে ঘর নিকোতেই দিন গড়িয়ে সাঁঝ,
হঠাত চিঠি...!তার গায়ে এক খুব চেনা আঘ্রাণ!
গুপ্তধনের বসতবাড়ি ওই চিঠিটির ভাঁজ,
গুমর ভুলে কাজলা আকাশ ভাসালো সাম্পান...
হিরের ফোঁটার কাঁকন,আমি মূহুর্তে মুমতাজ,
বৃষ্টি পড়ে টাপুর-টুপুর নদেয় এলো বান...

Saturday, 26 January 2013

হঠাৎ করে মাঝদুপুরে


আজকে আমার হাফ্‌ বেলা অফ!
নূন শো যাবি? ইচ্ছে হলে...
নইলে ছবি আঁকবি আমার?
বলছিলি... রঙ না, চারকোলে...

আঁকবি? যদি ক্লান্ত থাকিস...
তেম্‌নি হলে ব্যালকনি'তে
নিখাদ খানিক আড্ডা দেবো...?
সঙ্গে চুমুক ব্ল্যাক্‌কফিতে!

সব অভিযোগ, খারাপ লাগা
খাটের তলায় হচ্ছে জমা...
তুই নাকি তোর 'বসের চ্যালা'
'বিজ্ঞ' আমি... 'ব্যস্ততমা'...

সব ধুয়ে যাক, বৃষ্টি নামুক
ছাদ ভাসিয়ে; দারুণ ছাঁটে
পর্দা ভিজে সপ্‌সপে আর
আবছা হরফ বইমলাটে...

তুই আর আমি কেবল থাকি,
বৃষ্টি ঢাকুক সব ধূসরে......
'দুত্তেরি', ফের পড়ল মনে,
'আজকে তো তুই নেই শহরে...!'

Tuesday, 1 January 2013

নিবি...?


কত কি লিখিস তুই...! আমি অত পারিনা...!
লিখতে কি আর ইচ্ছে করে না,বল?
যখন চুপের ঘোরে,আলতো করে ঘুমায় নদীর পাড়...
যখন ঘুমের ধূয়া রাত-মহুয়া প্রলাপ বকে তার...
সত্যি বলছি,খুব লিখতে ইচ্ছে করে... কিন্তু আমি যে অত পারিনা!!

তুই কিন্তু খুব পারিস... ইচ্ছে হলেই কটা শব্দ দিয়ে রঙ তুলি বানিয়ে নিয়ে যা খুশি তাই লিখে ফেলতে...
আকাশ ভর্তি করে বিষাদের উল ছড়িয়ে আমি ফাঁকা ছাদে একা বসে সোয়েটার বুনি......আর তুই...?
তুই তখন রঙ লিখিস,গন্ধ লিখিস,গদ্য লিখিস,ছন্দ লিখিস... আকাশভরা মেঘের ঢল লিখিস... চুঁইয়ে-পড়া বৃষ্টির জল লিখিস...
বেগনি রঙের ধুতরো লিখিস... ভাঙা চুড়ির টুকরো লিখিস...
গলা-জড়ানো রাত লিখিস... সন্ধ্যের সওগাত লিখিস...
আর আমি দেখি... শুধু দেখি... সব অনুভব কথা ভুলে যায় নিমেষে... বুনতে বুনতে ঘর ভুল হয়ে যায়...!! কত কি যে ভাবি...? সেসব আর বলাই হয় না তোকে!
ভাবি বলবো,একদিন যদি একটা গল্প লিখিস তুই... বেশ হবে তাহলে! নীলচে সবুজ রঙের গল্প একটা...?!
মনভোলানো যত্ন নিয়ে... ভোররাত্রের স্বপ্ন নিয়ে...
আধেকটা ঢেউ ডানায় নিয়ে...তোকে নিয়ে আর আমায় নিয়ে...?!
বেশ হবে তাহলে!
বেশি বড় না; ছোটগল্পই লিখিস, কেমন...
কোথায় শুরু আর কোথায় শেষ,কেউ ধরতেই পারবে না...! দিব্বি চলবে শনশনিয়ে... আগুন জ্বলবে,শিশির পড়বে,শুকনো পাতাও খুব ঝরবে... প্রতি শব্দে হাজার-রঙের ফুল ফুটবে অগুনতি... পড়বে যখন বৃষ্টি তখন ভিজিয়ে দেবে ঝমঝমিয়ে...!!
বেশ হবে!!
কিন্তু কেমন করে শেষ হবে...?
তখন ভাবি জিগেস করবো তোকে,একেবারে শেষটুকুর জন্যে আমার একটা কবিতা নিবি রে?
কে জানে কত বছর ধরে,অনেক অনেক চেষ্টা করেএই একটা মাত্র কবিতা লিখেছি... তার চারটে মাত্র লাইন,
........ ঊষরবেলায় ধূসর মেঘের মিহিরঙ দিয়ে দিয়ে
আমি সোনালি গোধূলি পথ এঁকে নিতে পারি;
........ একবার ছুঁয়ে দ্যাখ আজ ওই কাঁটাতারটা পেরিয়ে
আমি হাত ধরে তোর মাঝনদীতে ফেরারি!!
নিবি...?

Saturday, 29 December 2012

তোর আমি কি?


এক্ষুনি তুই অন্য কেউ!
রংধোঁয়াশা সর্বনাশা
যেদিন তোকে দেখেছিলাম মিথ্যে সে-ও...
অন্য কেউ!
অন্য কেউ!

পরক্ষণেই আকাশ তুই...
রংমশালে দহনকালে
ফুল্‌কি হয়ে পুড়লে তোকে একটু ছুঁই...
আকাশ তুই,
আকাশ তুই।

একদিনকে তুই হিসেব;
"বলবো নাকি চুপটি থাকি"
দস্তাবেজে অঙ্কমেশা অধঃক্ষেপ!
তুই হিসেব,
তুই হিসেব।

সেই বিকেলেই বেহাগ-মন...
ঘুম-মহুলে ইচ্ছেভুলে
"স্বস্তি দেবো, স্বস্তি দেবো"... পাগলপন!
বেহাগ-মন,
বেহাগ-মন!

তোর আমি কি? রঙীন কাঁচ?
বদলচোখে দেখলে তোকে
সাতরঙা তুই এককাপড়ে... একটি সাজ...
রঙীন কাঁচ!
রঙীন কাঁচ!

Saturday, 1 December 2012

আলাপিতায়... এস.এম.এস. এ... ...


[কোন এক রাতে গুমোট থেকে মেঘলা পেরিয়ে দারুণ বৃষ্টি হয়েছিল শেষকালে, ভোরের দিকে... আমরা জেগেছিলাম... আর একটানা লেখা হয়েছিল কিছু পাগলামির এস.এম.এস... তাই দিলাম, একটুও বদল না করে...]

তুইঃ
সারাটারাত কার নামে যে গা ধোয়ালো?
বৃষ্টিভেজা আকাশ দিলো ডাইরি পাতায়...
আমার কেমন বাঁধ মানে না ইচ্ছেগুলো...
স্বপ্ন বেছে আটকে রাখি নকশিকাঁথায়...

আমিঃ
এমনি করে কার পায়ে তুই ঝড় লুটিয়ে
মল পরালি? ঘুম ছুটিয়ে
কার সে হাতের রাখলি পরশ বুকপকেটে?
প্রাচীন যত ছন্দ কেটে আঁকলি খাতায় পাতাবাহার...?
নামখানি তার বল্‌ না আমায়... নামখানি তার...

তুইঃ
ইচ্ছেপরাগ ঘুম ভুলে যায় তার পরশে,
নাম কি দেবো...! বকুলকথা...? নয়ানজুলি...?
সাবধানী’রা মানচিত্রের হিসেব কশে,
আর আমি এক... ভাঁটার টানে উজান ভুলি...

আমিঃ
তোদের কত গল্প থাকে সাগরপারের...!

উজান বাতাস আমার হাতের ইচ্ছেপালক...
আমার ফোনের মনখারাপি স্ক্রিনসেভারে
সেই তো ভাসায় ঘোর সেপিয়ায় সুতীব্র চোখ...

তুইঃ
রাত ফুরিয়ে ঠিক যবে সেই চৈতালি ভোর
দ্যাখ খুলে দ্যাখ মুঠোর ভেতর তোর’ও আকাশ,
সাগর রঙের স্বপ্ন আছে তোর আঁচলেও
ইচ্ছে করেই ভুল করে দ্যাখ... এই অবকাশ...!

আমিঃ
ধুর ! তুমি ছাই কিচ্ছু বুঝলে না কো...
‘ভুলপুরানে’র ছবিই খালি আঁকো...!
রোদ পড়েছে আমার ঠোঁটের কোণে...
বৃষ্টি-আকাশ আমার তমাল বনের...

তুইঃ
ঠিক বলেছিস... বুঝতে আমি চাই না কিছু
নিঝুম দুপুর... ছাদ-রেলিঙে আকাশ নিচু...
তুমিই বল, কি লাভ মেলে একলা বেঁচে?
কাকতাড়ুয়া একা-একাই বৃষ্টি ভেজে...
বড্ড ক্লিশে একটা চাঁদের ওলোটপালোট,
কালোয় মিশে বড্ড কাঁদায় আপোশবাণী
মন’টা বোকা... রাতের কাছে খেয়েছে চোট...
বাসি খাটে মুখ গুঁজে হয় কানাকানিই...

আমিঃ
সমুদ্রনীল বাতাস আসে আমার পাড়ায় সে সব রাতে...
যখন তুমি আপোশ শোনো... প্লাবন শুনি বৃষ্টিপাতে!
যাবি তো চল্‌... চোট ভুলে একছুট্টে ঝড়ের অন্তরীপে,
আলো জ্বলুক... আলো নিভুক... আমার হাতের জোনাক-দীপে...

তুইঃ
চল না খেলি দু'জন তবে নতুন খেলা?
আলোর ঘরের নিশান খোঁজা সমুদ্দুরে?
পুকুরজলে পা ডোবানোর স্বপ্নভেলা
ভাসিয়ে দিই চল্‌ গাঙ-মোহনার উথাল জুড়ে...

আমিঃ
আমার কথাও রাখলে তবে খেলতে পারি
বাঁচার খেলায় ভাগাভাগি মানলে, তবে...
অন্ধকারে সমান হবে অংশিদারী
আগুনব্যথার আদ্ধেকটাও আমার হবে...
আয়না ভাঙা কাচের গুঁড়ো... তাও দুজনের...
নিয়মগুলো তোর আর আমার আধাআধি...
স্বপ্ন পেলেও ভাগ হবে তা চারটি চোখে
রাজি তো চল্‌, নতুন খেলার মন্ত্র ফাঁদি...

Saturday, 17 November 2012

সোহাগী


শ্যাম, আমি তোর রাই হবো না... নীলাম্বরী...
তুই বিহনে জাগবো না রাত অশ্রুসজল,
তুই আমাকে বাঁশিই করিস সোহাগরঙের
আর বাধাহীন আশ্রয় দিস... ঠোঁটের আগল...!

খেলাচ্ছলেই অহল্যা এই আমায় জাগাস
রাখালিয়ায় স্নান করিয়ে সারা গোকুল
বইবো আমি... খুব অনায়াস... আর অবিরল
আর গোপিনীর হাত ভরাবে কলঙ্কফুল...

যন্ত্রণাতে নীল বিষে তুই আমায় ভরাস,
আর মাধবী জড়িয়ে রাখিস অপেক্ষাতে...
শ্বেতকরবীর স্বপ্ন ভাসাস মাঝযমুনায়
আর আমাকে আগলে রাখিস অন্য হাতে...

শ্যাম, আমি তোর মধ্যরাতের সঙ্গিনী হই...?
আমায় জুড়ে মন্ত্র ঢালিস... মন্ত্রণাহীন...
একলা আমি তোর আঙুলের নিই না দখল...?
উছলে পড়ুক প্লাবন... তবু তৃষ্ণা গহীন...!

এমনি চলুক... ভুলবি না তো বেখেয়ালে?
খুব অভিমান করবো তবে তোর ওপরে,
বুঝতে পেরেও কি সুর খেলে মনের ভাঁজে
অন্য সুরে বাজবো আমি... ইচ্ছে করে...

আর যদি ধর, এমনি আমি হারিয়ে গেলাম...
তন্ন করে খুঁজবি আমায়...? আমি যেমন
সমস্তখন খুঁজছি তোকে...? ঠিক সেভাবে
ধূসর হবে, অলীক হবে রাত্রিযাপন...

আরো খারাপ? হারিয়ে গেলাম... আর পেলি না...!
মনখারাপে ডুববি তখন... সর্বনাশী
এক'শ সুরের ঋণ কোলে তুই থাকবি জেগে...
আমিই তখন তোর বিরহ...!! শ্যামের 'বাঁশি'...!

শ্যাম, আমি যে আর জানিনা বাঁচার উপায়,
রাই হবো না, চাই হতে তোর প্রাণজোনাকি...
গভীর শীতে আরো গভীর উষ্ণতা হই...?
শ্যাম, আমি যে ভীষণ রকম 'তুই-সোহাগী'...!