Friday, 11 November 2016

স্ক্রিবল

মহুল ছিল, বহুল ছিল দিন,
বিরল, তবু দীঘল ছিল রাত, 
বছর ঘোরে, বিরহ সঙ্গীণ,
লাজুক হয়ে সাজুক মৌতাত...

Friday, 27 May 2016

স্ক্রিব্‌ল্‌

আমি খুইয়েছি সহজিয়া দিন,
জমে আটকে গিয়েছে স্টিয়ারিং
বুকে পালকের মত শ্যাওলা জমেছে 
সবজেটে আর গাঢ় নীল;
কবি ছড়াক স্বস্তি কাব্যে;
ভবি ভুলবে না, লিখে রাখবে,
'বড় জট পড়ে গেছে অসমীকরণে 
হিসেব মেলাতে পারোনি...'

Thursday, 26 May 2016

অভিমানে

তুই ঝড় আজন্মকাল;                'মুখচোরা' নাম পোশাকী,
দপ করে জ্বললে সাহস                সাক্ষাত কালবোশাখী...

ছেলে তুই এইরকমই,                  চিরকাল অনর্গল'ই;
লজ্জা কি একটুও নেই?                শেষে তুই আমার হলি?!

চুরমার হলাম যখন,                   দেখেছিস? আমার ক্ষতে
তোর নাম ক'বার ছিল               লিখেছিস কৈফিয়তে?

নেহাত'ই নেইকো উপায়...           রাখিনি, ভুলবশতঃ...
না হতাম তোর যদি আর            তাহলেই দিব্বি হত!

Monday, 18 April 2016

খেলাঘরে

খেলা মেখে রোদে সুখটান...
দম নিয়ে চুউউ-কিত-কিত...!
গা ধুয়েছি, খেলা দিয়ে স্নান;
খেলাঘরে সুগভীর ভিত।

Saturday, 16 April 2016

স্ক্রিবল

বছর গেলে ঘুরছে চাকা; শুকোচ্ছে নীল রঙ দোয়াতে,
একশো ছবির ক্যানভাস আর কে'ই বা বলো চায় খোয়াতে?
গড়তে পারো সাতমহলা, আঁকার ক্লাসে রোজ হাজিরা...
বদলাবে না সত্যি তাতে... ইচ্ছেখাতা আলতামিরা।

Friday, 15 April 2016

আমার ঠিকানা'কে

অনতি-অতীত “কি খবর?” বলে যেই হকিকত-হাল পোঁছে,
বলে কোণামোড়া ডায়েরির পাতা, (হীরে, তুলে রাখা আলগোছে…)
“ঘাস-গালিচায় গান ভাসালাম,
অথবা হিসেবি ঝগড়ুটে শাম
সে’সব না’হয় বাদ’ই দিলাম… তবু সব ছবি যায় কি বাদ?
তুই যেইদিন রবার্ট ব্রুস? বা আমরা সবাই সিন্দাবাদ?”

রোদ নিচু হয়ে পড়ছে শনিবারের বইমেলায়। স্টলে সামলানো-দায় ভিড়। আর বুকের ভেতর ক্রমশঃ  বাড়ছে উদ্বেগ! প্রেস-সংক্রান্ত গোলমালে অসংখ্য বই-এর বাঁধাই-এ ভুল! বিক্রির মত বই হাতে ছিল খান চল্লিশেক। অথচঃ দিনের শেষে বই বিক্রি সেঞ্চুরি করে ফেলেছিল! কারণ, একটা ছেলে চোখের জ্বালার জন্যে হাতে-ধরা ব্লেডের ধার কমতে দেয় নি! স্টেপলারের পিনে ক্ষতবিক্ষত হাতে স্টল সাজিয়েছিল নতুন বইয়ের গন্ধ দিয়ে...

ঘন্টা আটেক টানা এঁকে গেলে কতবার হয় নিব্‌ ভোঁতা?
ছুটে বেড়ানোর দুপুরগুলো’তে কি ছিল রোদের তীব্রতা?
কারা রয়ে গেল কার কাছে ঋণী,
“সেদিন আমরা আসতে পারিনি…
একা সামলালি…?”… সে’সব ঋণের ওজন আমার মাপতে ভয়!
এক-একটা দিন ভাবলে তবুও 'কি করে পেরেছি' ভাবতে হয়…

আমাদের প্রথম ঘরোয়া জলসা। খাটুনির চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ক্লান্তি’কে প্রশ্রয় দিই নি যত, প্রতিকূলতা ততই গলা তুলেছে সবার ওপরে। ভয়ের উঁকিঝুঁকি… হয়তঃ গুছিয়ে উঠতে পারবো না সময়ে… হয়তঃ দেরী হয়ে যাবে খুব…! তবু সেদিন সবকিছু ‘জাস্ট পারফেক্ট’ ভাবে মিলে যাওয়ার একটামাত্র কারণ… সেদিন খুব সাধারণ একদল কলেজপড়ুয়া বাংলা, ইংলিশ, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, কমপিউটার, মেক্যানিক্যালের বইয়ের বাইরে এসে দাঁড়িয়েছিল; হয়েগেছিল ইলেকট্রিশিয়ান কিম্বা গিটারিস্ট, অভিনেতা কিম্বা শিল্পী! সামলে নিয়েছিল ২৩০ ভোল্টের চাবুক বা হাতে অগুনতি সূঁচের ক্ষত! প্রতিকূলতার মাথা হেঁট, "কি মারকাটারি মেজাজ রে বাবা!" ঠিকানা… পরশপাথর… ছুঁলেই সোনা করে দেয়!  
             
দুই ঘন্টার অগুনতি রাত, বাইশ ঘন্টা দিন হল;
এক মন ভরা বীজধান নিয়ে এই তো বছর তিন হল…
হাসি’তে করেছি খাটনি উশুল;
আর সেইবার? বেঠিক বেভুল
কার নাম নিলি বেহোঁসি’তে তুই শুনেছি আমরা… নিরুত্তর…
রাস্তার বাঁকে কি লুকিয়ে এলি? আজন্ম চাপা স্বভাব তোর!

রবীন্দ্রভবনে আমাদের প্রথম অনুষ্ঠান সেই সন্ধ্যায়। চাপা উত্তেজনা প্রতিটা চোখে। একটা ছেলে গান ধরল। মুগ্ধতা, শুধু মুগ্ধতা রয়ে গেল! শুধু আমরাই জানলাম মনে মনে, শ্মশানের ধূলো পায়ে লেগে আছে এখনও… দু’সপ্তাহও হয় নি! 

কিছু অভিমানী চাবিকাঠি নেই… কখনও হিসাব করিনি তার; 
সিঁড়ি’তে ফরাসে তোর ধূলো লেগে, তবু বেড়ে যায় কিলোমিটার…
তোর দেশ থেকে প্রজাপতি রঙ,
ছন্দের মত নদীর বিভঙ,
আমার শহরে বৃষ্টি-শিলঙ পাঠাস, আমরা খুব নাছোড়…
সে’সব মিশিয়ে জীবন বিলাবো বইমেলা এলে… প্রতিবছর!

Thursday, 14 April 2016

২০০৯ এর ডায়েরি থেকে...

মেঘেদের নাকি পাড়া বদলেছে, জ্যোতিষী বলেছে পালাবদল;
তাই বৃষ্টি'তে ঝুলবারান্দা স্থবিরতা ভুলে গোড়ালিজল...
গ্রহ তারা চাঁদ শুভ কোণে নত, তবু শান পড়ে বিতৃষ্ণায়,
ভেজার আড়ালে চোখে জল এলে 'মনখারাপিয়া' বলিস না...

Wednesday, 30 March 2016

অফিস-ফেরত

অফিস-ফেরত দেখা, অসময়ে, ভিড়ে...
যেখানে বিস্ময় নেই, হয়ে নেই কেউ হতবাক,
যেখানে নিরুত্তাপ উদাসীন আঁক
থমকেছে তোর মুখে... আলোর ফোয়ারা ঝিরঝিরে...

উড়ে এল মেঠো সুর... সাইকেল দিন...
মৌচাক খোয়াইয়ের মৌতাত সাঁঝ...
অভিমানী চিঠিদের আনকোরা ভাঁজ
উড়ে এল; ভিজে গান... রূপোলী ফড়িং...

Friday, 17 July 2015

কাটাকুটি

এখানেই থাকি, শ্বাস নিই, বাঁচি... তবু
তোর মতে যেন দেখেও দেখি না আমি
ভিখিরি শহর ফুটপাথে জবুথবু...
অনুভূতি সব হাঁপাচ্ছে; কমদামী...

অভিযোগগুলো সত্যি অনেকটাই
আমার স্বপ্ন আজকাল বনসাই;
আগুনে কলম, লাল কালি, পোস্টার
খাটের তলায় ফেলে রেখে দিতে চাই...

আমি যদি বলি ছন্দে পয়ার মিল
আমি যদি বলি তোমার-আমার-ঘর
কাগজের নাও, গাঢ় স্যাফায়ার নীল...
তুই ভেবে নিবি কালবৈশাখী ঝড়...

কেন শুধু শুধু আজ ভাব, কাল আড়ি?
এখন ফাগুন, সবেই ফেব্রুয়ারি...
ঘুমচোখে মুঠো ভরি দখিনায় চল্‌,

পেঁজা মেঘে চল্‌ ভরে রাখি আলমারি..

Tuesday, 14 July 2015

স্ক্রিব্‌ল্‌

কারণ খুঁজেই অঙ্ক সাজাস, ইচ্ছে রাখিস ট্রাঙ্কে ভরে,
বৃষ্টি মাপিস চোঙ রেখে আর দৈর্ঘ্য মাপিস ঘুমজাগরের...
আঁকার খাতায় ঢাললি কালি, রাত্রি জুড়ে আরক্ত পিচ,
মাপতে গিয়ে অসীম হল... অন-অফ-অন ব্যাস্ত সুইচ।

Thursday, 19 February 2015

স্ক্রিব্‌ল্‌

এক
আমার বাড়ি উচাটনের ঝড়ে
আমার বাড়ি অপ্রেম-বন্দরে;
আমার বাড়ি ভীষণ ভবঘুরে...
তোমার থেকে আলোকবর্ষ দূরে...


দুই
হৃদয়ের কাছ ঘেঁষে থাকা ফালি মেঘ
হাত পেতে না চাইলে কি নিয়মে চাই?
কি নিয়মে বাঁধা রেখে রূপোলী আবেগ
শ্রাবনী ভরসা দিয়ে আকাশ রাঙাই?

Tuesday, 15 April 2014

স্ক্রিবল, ১লা বৈশাখ, ১৪২১


ঘড়ির হিসাব রাত অনেক,
চোখের পাতায় নুন-বালি,
আজকে নিয়ে উনিশটি রাত পায় নি ঘুমের নাগাল;
ব্যস্ত শহর আঁকড়ে আমি সমস্ত রাত জাগা...

তোমার খবর নিইনি তো!
তোমায় ভুলে গেছিই প্রায়...
সময় পেলেই দেওয়াল গড়ি, পাহাড় দোষারোপের...
কাঁচ রেখেছি, আঁচ রেখেছি কাঁটার ঘেরাটোপে।

তোমার পাড়ায়  চুপটি রাত,
পর্দা ওড়ে ছলাতছল,
তোমার উঠোন রঙিন করে স্বপ্ন সারি সারি...
কি মন হলো? স্বপ্ন'তে তোর এই পেতেছি আড়ি...

... নরম  আলো, সাঁঝ বোধহয়...
ছায়ায় ঢাকা দশ'টা মুখ,
নাম জানিনা, কি খুশী তুই তবু ওদের সাথে !
বেশ বুঝেছি কেন আমার ঘুম আসেনা রাতে...

Thursday, 23 January 2014

ভাবী

বর্ষা আসবেই? জানো কি? জানো ঠিক?
জ্যোত্স্না, মেঘ সব এখানে সাময়িক,
এখানে বাসা বাঁধে মেঘের শত্তুর,
গরম বাড়ছেই, চরম রোদ্দুর...

ভাঁড়ারে হা-হুতাশ, কোথায় মন দি?
এখানে মেঘমাস কফিনে বন্দী...
বাড়ছে রেলভাড়া যেমন দস্তুর,
পাল্লা দিয়ে আরো বাড়ছে রোদ্দুর!

দু'বেলা জল আসে কলের লাইনে,
তা থেকে বৃষ্টির আভাসও পাই'নে...
ওদিকে সাতরঙ... চশ্ম-এ-বদদূর...
অনিবারণ যেন প্রবল রোদ্দুর...

এখনও হাতে আছে শেষ দানের তাস...
আসুন, ছায়া খুঁজি (সব'ই তো ক্যাকটাস!)
দীপকে মল্লারে বলুক সামবেদ,
আগুন জ্বলবে, না বৃষ্টি নামবে?

Monday, 19 August 2013

কু-ঝিক-ঝিক


উলটপুরাণ গল্প গেল মেঘের বাড়ির রাস্তা দিয়ে,
ভালোবাসার,নাকি কাজের ওয়াস্তা দিয়ে...

কু-ঝিক-ঝিক মেসেজ এল, তিস্তাপারের স্নিগ্ধ আলো,
লক্ষ রঙের সবুজ দিয়ে চোখ ধোয়ালো!

চায়ের বাগান,মনখারাপি ঝগড়াগুলো... স্বাদ কষাটে,
আকাশ,নদী... সব ছবি'রা পেছন হাঁটে...

ঠোঁটের ওপর এক ফোঁটা কি?স্বপ্ন দেখি ভোরের আগে,
উচ্ছেফুলের মধুর মত মিষ্টি লাগে...

Friday, 26 July 2013

ত্রিকোণের আগে


তোকে ছাড়া আমি কাটিয়ে এসেছি দিন,
তাই তোকে ছাড়া কাটাতে এসেছি ছুটি,
জানি,দোষ তুই ধরবি না সঙ্গীণ...
বড় জোর 'স্বার্থপর',বা 'হিংসুটি'...

বড় জোর অভিমান... তোর অজানিতে
ফন্দি পেতেছে বর্ষার মেঘে মেঘে,
আমাদের পারিপার্শ্বিক পরিধি'তে
আমরা দু'জন বাদ পড়ে গেছি দেখে...

ঘষটানো দিন,রাত্তিরগুলো ভোঁতা,
চাবুক চালালো শাণিত বজ্রপাতে,
অস্থির দাবী,উত্তাপ...অন্যথা
হবেই আখেরে আমাকেও পস্তাতে!

ওরা সমুদ্রে মাদক মেশাতে পারে,
পাঁচখানি মুখ গুঁজে রাখে পাঁচ কানে,
আড়াল সরালে বিবস্ত্র করে ছাড়ে,
বহুভূজ আঁকে বোঝাতে প্রেমের মানে।

বিষ-তেতো হল আদুরে চায়ের লিকার,
মিশকালো স্রোতে নিজেকে দিচ্ছি সঁপে,
একজন আমি তোকেই করে না স্বীকার,
একজন পড়ে মরা-কটালের কোপে...

এখানে ডুবছি;সাগরে উথাল শ্রাবণ...
আর শীতঘুম তোর ঘরে-অন্দরে,
পারবো না;শেষে হয়তঃ ফিরেই যাবো...
তবু মাঝেমাঝে পারতে ইচ্ছে করে...!

Tuesday, 2 July 2013

পাহাড়িয়া


এইখান থেকে মিনিট দশেক আর,
পাইনের সারি, চুলের কাঁটার বাঁক,
পেরিয়ে দ্বাপর যুগের অন্ধকার
ফিরছি; কোথায়, সে কথা বরং থাক...

খেয়ালের সাথে পথ পাকিয়েছে জট,
বাঁয়ে রয়ে গেল রুংলি রুংলিয়ট,
ঘুমেলা গ্রামের কোল জুড়ে ঘনঘোর,
ফিরছি, সে কথা না জানাই ভালো ওর।

নভেম্বরের তীক্ষ্ণ মহুয়া শীত,
তিস্তার বুকে ঘুমিয়েছে রঙ্গিত,
ধূসরে বিলীন সবুজাভ যত ঢেউ...
আমি যে ফিরেছি ওকে জানিওনা কেউ;

নিস্তব্ধতা নাম সহযাত্রীর,
কমলা স্বপ্ন কাঞ্চনজঙ্ঘার,
পাথুরে হচ্ছে পাইনাস রাত্রি...
পাহাড়, বলো না...! ও কি ফিরেছিল আর...?

Tuesday, 25 June 2013

ঘুমজড়ানো


এক

একটা গাছের হলদেটে ফুল খুব ঝরেছে পাগলা ঝড়ে,
একটা আকাশ বিনীল রাতে ডুব দিয়েছে ভুলসাগরে;
                   একটা সবুজ গঙ্গাফড়িং
                   মেঘ হয়েছে রাত্তির দিন
একটা ছেলে ঘুম গিয়েছে চিঠির ঝাঁপি আগলে ধরে...



দুই

ঘুমজড়ানো রাত্রি এলে আমার কড়া নেড়ে
মাঝেমাঝেই তোর হাসি'রা আমায় খুঁজে ফেরে...
রাতবিরেতে উল্কা-ইমন দিব্বি খুঁজে আনিস,
সত্যি ছিলি? স্বপ্ন ছিলি? তুইও কি ছাই জানিস?



তিন

ঘুম ভিড় করে আনাচে-কানাচে,
কথার নৌকো নির্বাক স্রোতে,
জ্যোৎস্নার বাড়ি আঙুলের ভাঁজে,
স্বপ্নের বাসা ইনবাক্স'তে...

Wednesday, 12 June 2013

কৈফিয়ত


"কি কারণে ছিল আঙুলে আঙুল... সহজিয়া ভালোবাসা...?"
"পকেট, হৃদয়, জীবন উপচে সময়ের ছিল বাসা।"

"কি কারণে আমি মাড়িয়ে এসেছি সব ছায়া উদ্ধত...?"
"সময়। সময় পিছলে যাচ্ছে জ্যান্ত মাছের মত।"

"কি কারণে আমি বিদ্ধ হলাম তীক্ষ্ণধার ছোবলে...?"
"শাস্তি হয়েছে। সময়ের কড়ি পুড়িয়ে এসেছো বলে..."

Wednesday, 22 May 2013

এ্যাই ছেলেটা…!


রোজ সকালে এ্যালার্ম ডাকে; ঘুম ভাঙে তোর;
সকাল কি আর? প্রায় রাত্তির… ভোর বড়জোর
চারটে হবে; স্ট্রিটলাইটের একচোখে ঘুম,
চারকোলময় আকাশ তখন, পাড়া নিঝুম...
ঠিক তখনই একলা আলো তোরই ঘরে,
নিউমেরিকাল কিম্বা মাইক্রোপ্রসেসরে
চোখ ডোবে তোর সকাল সকাল; আর কিছু কি
কক্ষণও ঘুম ভাঙিয়েছে তোর? একটু ঝুঁকি
নতুন কোন স্বপ্ন দেখার…? ফুলের কথা,
গানের বুলি… ভাবতে পারিস? খুব অযথা?

এ্যাই ছেলেটা…! নাম কি যেন?
অনেক হল বই-খাতা আর পেন গোছানো…
অনেক হল রাতজাগা আর সকালজাগা……
নিয়মচাকা
একটুখানি ঘুরিয়ে দে না অন্য দিকে…
খেলতে শিখে
বেনিয়মের খেলবো খেলা সারা বিকেল…
সমস্ত রাত… পাশ আর ফেল
ভুলবি না হয়…? স্বপ্ন দিয়ে বুনবো রুমাল
দু’জন মিলে… সমস্ত রাত…! দুষ্টু সকাল
আসতে গেলে বকেই দেবো; বুনবো রুমাল……
......................................................................
......................................................................

দশ’টা বাজে… আমার দেরি কলেজ যাওয়ায়,
কোনোক্রমে টিফিন ফেলে দে-দৌড় লাগাই!
ভুল হয়ে যায় এ্যাসাইন্টমেন্ট প্রোগ্রামিং-এর,
বাসের সিঁড়ির ভেংচিকাটা হর-এক-দিনের;
তুইও থাকিস ঐ বাসেতেই; নামতে দেখি…
“গোমড়ামুখো!!” রিদ্ধি বলে… সত্যি? মেকি?
সন্তর্পণ ভাবনা আসে… তুই কি ভাসাস
দাগের ওপর আলতো দাগে, খুব অনায়াস
ইলেকট্রিকাল শেষের পাতা ছবির নেশায়…?
দিস না কি তুই রোদসকালে আলগোছে সায়?

এ্যাই ছেলেটা…! নাম কি যেন?
অনেক হল চুপবেহালায় সুর ভেজানো…!
অনেক হল মুখ লুকানো তোর হিসেবে…!
দ্যাখ কি ভেবে
ঝর্ণা সে এক পাগল তোকে ডেকে ডেকে…
কোথাত্থেকে
খবর সে তোর পেল আমি তা জানিনে;
যাই হোক, তুই কলম টেনে
লিখতে পারিস দু’এক কলম তাকেই নিয়ে…
ভিতরপোড়া স্বভাব’টা তোর তাড়িয়ে দিয়ে,
ভিজতে পারিস পশলা-কয়েক তাকেই নিয়ে....
..........................................................................
..........................................................................

কলেজফেরত সন্ধ্যে, বা ধর মাঝবিকেলে…
সেই অবেলায় আকাশমেয়ের কান্না এলে,
টইটুম্বুর সন্ধ্যেমুকুর, উন্মনা জুঁই…
ঝমঝমিয়ে ভিজছি আমি… সংযমী তুই…!!
ভাল্লাগে তোর? মন করে না ছুট্টে যেতে?
প্রত্যাশাদের চোখ এড়িয়ে অলক্ষিতে…
কাপাস তুলো… নদীর কিনার… অজস্র কাশ…
রোদের তিলক… মেঘজমানো স্বপ্নকেলাস…
আর কতদিন চশমা আড়াল দু’চোখ ভরে?
গুছিয়ে থাকা মনখারাপের সব খবরে…?
হয় না মনে একটা কোনো পাগলি নদী
“ফার্স্ট বয়” না, শুধুই তোকে চিনতো যদি…?

এ্যাই ছেলেটা…! নাম কি যেন?
অনেক হল ব্যথার ওপর মেঘ বিছানো…!
অনেক হল জবাবদিহি জনান্তিকে…!
আপত্তি কি?
দিনদুপুরে আরব-রাতে হারিয়ে গেলে...
কলম ফেলে
তুলির টানে শাহাজাদীর মকবরা’তে
পারিস না তুই চোখ ভাসাতে?
ধার তো নিতে পারিস বাঁধন, খামখেয়ালে…
নীলচে রঙের গল্প দিতাম এই আকালে…
বন্দীখামের খেয়াল দিতাম… খামখেয়ালে……!

Monday, 13 May 2013

তিন টুকরো


এক

কাউকে দিলি নীলচে খাম... কাউকে দিলি মিথ্যে নাম,
কাউকে আবার মর্মবেদনা...
যা হোক,দিলি... দ্যাখ ফারাক...করতে দিলে আমায় ভাগ
সবার কথা ভাবাই যেত না।

দুই

অ্যালজেব্রা'কে বলেছি যে নখ বিঁধিয়ে দে আর নিংড়ে নে,
দিবি না যখন কলেজ-ফেরত সে'সব বর্ষা দিন এনে...
আমৃত্যু আমি হাতড়াতে পারি তবুও বিধাতা খুব জানেন,
প্রজাপতি জালে ধরা পড়া গেছে,ট্যাটু'তে হয়েছে পার্মানেন্ট।

তিন

যেই  রোদ্দুর হলো উন্মাদ,যেই বর্ষা অবিশ্রান্ত,
তুই ঘরমুখে দিলি একছুট ঘড়ি দ্যাখাতে দিয়ে ক্ষান্ত;
তুই ছুটে চলে গেলি আড়ালে,
আর দশ'টি মিনিট দাঁড়ালে
পায়ে হাঁটুজল,রোদে ঘামস্নান,আমি আসতাম!আসতাম তো!